রবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী  ওচমান গণি পাটওয়ারী

বিশেষ প্রতিনিধি,চাঁদপুর

আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ গাজীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর বিদায়ী চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটওয়ারীকেই ফের মনোনয়ন দিয়েছে  আওয়ামী লীগ।
সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ইউসুফ গাজীর পরিবর্তে নতুন করে ওচমান গণি পাটওয়ারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছি।”
ওচমান গণি পাটওয়ারী ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়নেই চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।নির্বাচিত হওয়ার পর চাঁদপুর জেলা পরিষদে তিনি প্রায় ১০৩ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেন।চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার তার পরিবর্তে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ইউসূফ গাজীকে মনোনয়ন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।
 নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর ইভিএম পদ্ধতিতে  চাঁদপুর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার কথা রয়েছে।কিন্তু চাঁদপুরে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান রোববার বিকালে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউসূফ গাজীর মনোনয়ন বাতিল করেন।
 তবে প্রার্থী চাইলে এ আদেশের বিরুদ্ধে আগামী তিন দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে জানিয়েছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ইউসুফ গাজীও সাংবাদিকদের আপিল করার কথা বলেছিলেন।এর আগেই আওয়ামী লীগ তার আগেই দলীয় সমর্থন বদলে দিল।
বিদায়ী চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আনার পর নির্বাচন কমিশন শুনানি শেষে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতারণার অভিযোগে ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে ২০০৪ খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি।ওই মামলায় আদালত আসামিকে খালাসের রায় দিলেও ২০০৮ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে খুলনা দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদী।আপিল শুনানি শেষে ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ইউসুফ গাজী উচ্চ আদালতে আপিল করলে হাই কোর্ট পাঁচ বছরের সাজা ও অর্থদণ্ড বহাল রাখে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ইউসুফ গাজী ২০১৯ সালে লিভ টু আপিল করেছে, যা এখন শুনানির অপেক্ষায়।
জেলা পরিষদ আইনের ২০০০ এর ৬(২) ঘ ধারা অনুযায়ী ‘নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কোনও ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার যোগ্য হবেন না।

Comments are closed.

More News Of This Category