সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় ‘গুটিমানব’ মিন্টু

আনোয়ার হোসেন মানিক/হাসান মিয়াজী 


পুরো শরীর জুড়েই গুটিগুটি।কপাল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত।চোখ দুটো দিয়ে প্রকৃতি দেখছেন আর আক্ষেপ করে বলছেন সৃষ্টিকর্তা কেন আমাকে এমন জীবন দিলেন? আমি যে একটু করুনা আর দয়া ভিক্ষা করে বাঁচতে চাই।কোনো দয়াবান মানুষ আমাকে কী একটা নতুন জীবন ভিক্ষা দেবেন? কথাগুলো বলতেই চোখের কোণ বেয়ে টপটপ বেদনার অশ্রু ঝরতে লাগলো।ঠিক কতটা দুঃখ হলে অনায়াসেই চোখের কোণ ভিজে অশ্রু গড়ায় সেটা শুধু জানেন বিরল রোগে আক্রান্ত চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম  ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মজিবুল হক ও রোকেয়া বেগম দম্পতির বড় পুত্র আনোয়ার হোসেন মিন্টু (৪০)।
সমাজের অন্যান্য মানুষের মত স্বাভাবিক শিশু হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন আনোয়ার হোসেন মিন্টু। কিন্তু জন্মের পাঁচ  বছরের মাথায় একদিন সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শে  ডায়রিয়া রোগ থেকে মুক্তি পেতে  ঔষধ সেবন করে। ঐ ঔষধ সেবনের পর থেকে কি এক অজানা রোগ বাসা বাঁধে তার শরীরে।সেই থেকে অদ্যাবধি  অজানা রোগটি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে।
জীবনের চল্লিশটি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও  ঘর-সংসার করা হয়নি মিন্টুর। নিজের অসুস্থতার কারনে কেউ তাকে বিয়ে করতে রাজী হয় না। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে আনোয়ার হোসেন সবার বড়। বাবা-মায়ের বড় সন্তান হিসেবে অসুস্থ থাকায় সে কারও জন্য কিছু করতে পারেননি। তাঁর এক ভাই ও তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোনের বিয়ের বাকি রয়েছে। আনোয়ার নিজের জন্য চিন্তা করেন না।দুশ্চিন্তা করেন ছোট বোনকে নিয়ে। বোনকে পাত্রস্থ করতে পারলেই কষ্ট কিছুটা কমবে মিন্টুর।মিন্টুর বাবা গত হয়েছেন কয়েক বছর আগে। মা বেঁচে আছেন কিন্তু তিনি বয়সের ভারে নূব্জ্য। চিকিৎসা করছেন না কেনো? এমন এক প্রশ্নের অস্পষ্ট  জবাবে মিন্টু বলেন “টেয়া নাই, টেয়া ছাড়া কি চিকিৎসা হয়?” আনোয়ার হোসেন মিন্টু সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কত টাকা লাগবে সে ধারণা তাঁর নেই।কোথায় গেলে এ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে সেটাও জানা নেই মিন্টুর। যদিও মিন্টু আশায় বুক বাঁধেন এই ভেবে একদিন তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরিবেন। কেউ একজন তাঁর জীবন বদলে দিবে। এই স্বপ্ন দেখেই দিন অতিবাহিত করছেন মিন্টু।কথায় কথায় বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে আমার চিকিৎসা হবে। আমি সুস্থ জীবন পাবো।


আনোয়ার হোসেন মিন্টু শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় সমাজসেবা কার্যালয় শাহরাস্তি হতে প্রতিবন্ধী ভাতা পান। কিন্তু ভাতার টাকায় তার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।বিকল্প কোনো উপায়ও নেই। ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করবেন সে আর্থিক সামর্থ্যও নেই তাঁর।
মিন্টু সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহরাস্তির চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর  বলেন, আনোয়ার হোসেন মিন্টু আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। আমি তাকে চিনি। তার রোগটি সনাক্ত হওয়া প্রয়োজন।রোগটি সনাক্ত ও নিরাময় যোগ্য কি-না? : এবিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া গেলে এবং কি পরিমান অর্থের প্রয়োজন হবে তা জানা গেলে সামজিকভাবে ও সরকারি সহায়তা তাঁকে সহায়তা করা যাবে।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেএ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা যেতে পারে।
 সমাজের বিত্তশালী হৃদয়বান দানবীর ব্যক্তিগণ মিন্টুর চিকিৎসার জন্য সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিলেই হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হবে বিরল রোগে আক্রান্ত  দুঃখী মিন্টুর।

Comments are closed.

More News Of This Category