মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খাদ্য নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে জাহাজ

 

ক্রাইম রিপোর্ট ডেস্ক


কক্সবাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে একটি জাহাজ। জাহাজটি শুক্রবার দুপুরে নুনিয়ার ছড়া বিআইডব্লিওটিএ ঘাট থেকে রওনা হয়।

সপ্তাহ ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে দ্বীপটিতে। খাদ্যপণ্য হিসেবে জেলা প্রশাসনের ৭৫ টন ভিজিইডি ও ভিজিএফ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। কোরবানির জন্য ৫টি গরু, ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সকাল থেকে ট্রাকে ট্রাকে করে আনা হয়েছে চাল, ডাল, আলুসহ খাদ্যপণ্য। এসব পণ্য শ্রমিকরা তুলেছেন জাহাজে। সকাল থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিওটিএ ঘাট থেকে পণ্য উঠানামার কাজ করছেন তারা।

জাহাজে করে শুধু মালামাল বা খাদ্যপণ্য নয়, আটকা পড়া আড়াই শ মানুষও ফিরছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপে। এমন দুর্যোগে সহযোগিতা পেয়ে খুশি দ্বীপের মানুষেরা। দ্বীপের বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, যেসব খাদ্যপণ্য পাঠানো হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এসব খাবার বড়জোর এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে শেষ হয়ে যাবে। প্রশাসনের উচিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা। মাসের পর মাস যদি ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকে তাহলে সপ্তাহ অন্তর অন্তর ত্রাণ পাঠানো দরকার।

দ্বীপের আরেক বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘একমাস হলো কক্সবাজার শহরে আটকা পড়েছি। স্ত্রীর ডেলিভারি শেষে অন্তত এক মাস এখানেই থাকতে হয়েছে। এখন জাহাজে করে বাড়ি যাচ্ছি। খুশি লাগছে।’

সপ্তাহ ধরে সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌ-রুটে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। দ্বীপবাসীর জন্য খাদ্যশস্য নিয়ে জাহাজ পাঠানোর উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে বেসরকারি মালিকানাধীন কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের জাহাজ বার আউলিয়া। প্রতিষ্ঠানটির কক্সবাজার ইনচার্জ হুসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, মানুষের পাশে থাকতে পেরে তারাও খুশি। শুক্রবার দুপুর ২ টায় সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় জাহাজটি।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে পাঠানো খাদ্যপণ্য দ্বীপের মানুষের এক মাসের খাদ্যঘাটতি পূরণ হবে। এ ছাড়া দ্বীপবাসীর জন্য প্রয়োজনীয় ঔষুধও পাঠানো হয়েছে।

জাহাজে করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বীপে পাঠানো পণ্য হলো ৭৫ টন খাদ্যশস্য, গরু ৫টি, শুকনো খাবার ৩০০ প্যাকেট। বিভিন্ন ব্যবসায়ী বিক্রির জন্য নিয়েছেন ৮০ টন খাদ্যপণ্য, গ্যাস সিলিন্ডার ১৩০টি, ঔষুধ ৩০ কার্টুন। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মালামাল ও খাদ্যপণ্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে যাত্রী নিয়ে অন্তত ১০টি ট্রলার ভিড়েছে টেকনাফের সাবরাং মুন্ডার ডেইল নৌঘাটে। বঙ্গোপসাগরের বিকল্প চ্যানেল ব্যবহার করে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ঝুঁকি নিয়ে টেকনাফের সাবরাং পৌছায় ট্রলারগুলো।

Comments are closed.

More News Of This Category