বৃহস্পতিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

 

বিশেষ প্রতিবেদক


চাঁপুরের হাজীগঞ্জ উপউপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অধিনে খাদ্য দ্রব্যের দোকান, রাইচ মেইল, চাউলের আড়তের লাইন্সেস নবায়ন, নতুন লাইন্সেস করা, বাজার মনিটরিং, ন্যায্য মূল্যের লিডারের চাউলের ছাড়পত্র দেওয়া, এতিমখানায় চাউল বরাদ্ধ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে এই নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে।

নৈশ প্রহরী নাজমুস শাহাদাত।নিরাপত্তা প্রহরী হলেও সামলান খাদ্য কর্মকর্তার সব কাজকর্ম।তার নাম শুনলে আতকে উঠেন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।বিপদে পড়লে প্রতিবন্ধী হওয়ার ঘটনাকে সামনে আনেন। যখন কোন বদলী অর্ডার কিংবা অভিযোগ আসে তখনি হয়ে যান প্রতিবন্ধী, হাটার জন্য ব্যবহার করেন স্ক্যাচ। নিজেকে সহকারি খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে।নৈশ্য প্রহরী নাজমুস শাহাদাতের ভয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে স্থায়ী ভাবে আসতে রাজী হয় না কোন কর্মকর্তা। দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব কর্মকর্তা দিয়েই চলছে সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন বিভিন্ন প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে। জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ের কোন কর্মকর্তাই এ নিরাপত্তা প্রহরীর অপকৌশল থেকে রেহায় পায়নি ।২০১২ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে নিজ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের একের পর এক হয়রানির কারনে অনেকেই ফুঁসে উঠছে।



হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী নাজমুস শাহাদাতের দৌরাত্মে অত্র অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কার্যালয়ে বেনামে চিঠি দিয়ে দিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নাজমুস শাহাদাতের নিয়ন্ত্রনে থাকে অফিসের ফাইল । এ নিয়ে প্রতিবাদ করে নানাভাবে বিপদগ্রস্ত হয়েছেন এ অফিসের অনেক সাবেক কর্মকর্তা।

এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে উপজেলা খাদ্য গুদাম কার্যালয়ে কর্মরত সহকারি উপ-খাদ্য পরিদর্শক নাছিমুল করিম ও নৈশ্য প্রহরী কামাল হোসেন।তবে কামাল হোসেন নিজেও খাদ্য গুদামের কয়েকটি কক্ষতে নিজের পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।চাকরীতে যোগদানের পর অফিস কর্মকর্তাকে জিম্মি করতে কখনো সাংবাদিক, কখনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের আত্মীয় স্বজন, আবার কখনো প্রতিবন্ধী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে। রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অফিস কর্মকর্তা কর্মচারীদের হুমকি ধমকি দিতেন এই নাজমুস শাহাদাত।

২০১২ সালে নোয়াখালী জেলা সদরে চাকরিরত অবস্থায় তৎকালীন সময়ের খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বাবুলকে সাংবাদিক পরিচয়ে হুমকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় তাকে হাতে নাতে ধরে মানিব্যাগ যাচাই ১৫ থেকে ২০টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়, এবং মুছলেকা দিয়ে ছাড়া পায় নাজমুস শাহাদাত।নোয়াখালী জেলা সদওে চাকরী স্থায়ীকরণ হলেও ক্ষমতার বলে সংযুক্তিতে নিময় বর্হিভুতভাবে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ নিজ উপজেলা হাজীগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে এসে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন তিনি। একাধিক বার বদলীর অর্ডার আসলেও কোন ভাবেই এ অফিস ছাড়েনি তিনি।২০১০ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হন নাজমুস শাহাদাত। নাম লেখান প্রতিবন্ধী তালিকায়। শরীরের কোন অংশ বিকলাঙ্গ না হলেও সড়ক দূর্ঘটনাকে পুঁজি করে ভাগিয়ে নেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের আর্থিক সহযোগিতা এবং প্রতিবন্ধী স্বীকৃতি কার্ড। যা একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে কোন ভাবে সুবিধাভোগী হতে পারে না।এ ছাড়াও নাজমুস শাহাদাত সরকারি কর্মকর্তাদের নাম্বারের সাথে মিলে এমন সিরিয়ালের মোবাইল সীম সংগ্রহ করে কখনো ডিসি, কখনো এসপি, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজে ফোন করে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় এবং খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানি করার বিষয়ে একাধিক বার হাতে নাতে ধরা পড়ে। আর তখনি প্রতিবন্ধী হওয়ার নাটকে বনে যায় এ নৈশ্য প্রহরী।

হাজীগঞ্জ খাদ্য গুদাম সহকারি উপ-খাদ্য পরিদর্শক নাছিমুল করিম বলেন, আমার কর্মস্থল চাঁদপুর সদরে। আমার মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কারণে আমি নিজ উপজেলা হাজীগঞ্জ খাদ্য গুদামে সংযুক্ত হিসেবে কর্মরত রয়েছি। আমি স্থায়ী বদলীর জন্য আবেদন করলে এ নাজমুস শাহাদাত আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দেয়। সে একজন প্রতারক। আমি তার বিরুদ্ধে মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

নাজমুস শাহাদাত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। আমি এসবের কিছুই জানি না।আমার শ্বশুর বিয়ের পর তাঁর কোনো সন্তান না হওয়ায় তিনি আমার স্ত্রীকে তখন দত্তক আনেন।দত্তক আনার পর আমার শ্বাশুড়ি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।সেই কন্যাকেই বিয়ে করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে কর্মরত নৈশ প্রহরী কামাল। কামাল আমার আত্মীয় তার সাথে আমার সু-সম্পর্ক রয়েছে। ২০১২ সালের যে ঘটনাটি নোয়খালী সদর অফিসে ঘটেছিল।তা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। সেখানে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল।আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব রিউমার ছড়াচ্ছে খাদ্য গুদামের ঐ কামাল। পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত দ্বন্ধকে পুঁজি করেই এসব করছে কামাল।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে এমন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দাখিল করবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments are closed.

More News Of This Category